যতটা কাছাকাছি বসে থাকে জীবন ও মৃত্যু;
তার চাইতে অনেক বেশি কাছে এসেছিলে তুমি।
তোমার উষ্ণ দেহের মৃদু কম্পন অনুভুত হচ্ছিল হৃদয়ে আমার;
মৃত্যুকেও এতটা কাছ থেকে অনুভব করেনি কোন জীবিত।
জেনারেল রিলেটিভিটি আর স্পেশাল-রিলেটিভিটির পার্থক্য না বুঝলেও,
একটি হাত কতোটা কোমল, কতোটা স্নিগ্ধ হতে পারে বুঝেছি আমি।
ছন্দে ছন্দে বুনোপাখির ঝাঁক বেঁধে বেঁধে যেমন ওড়া দেখেছি;
একই ছন্দে আমার অনুভুতিদের উচ্ছলতায় মেতে ওঠা দেখেছি।
খুউব কাছে চাচ্ছিলাম;
কতটা কাছে? যতটা কাছে থাকে-
শিকড়-ও মাটি, তিমি ও সাগর,
রেনু ও পাপড়ি, সন্ধ্যা এবং রাত্রি।
করাপ্ট পলিটিশিয়ান যেমন যায় জনতার কাছে,
ভ্রমর যেমন যায় ফুলেদের কাছে , কিংবা
কামার্ত পুরুষ যেমন যায় বেশ্যার কাছে
তেমন নয়, তেমন নয়, ওভাবে নয়—
সৃষ্টিলগ্নে যতটা কাছে ছিলো মহাবিশ্বের সকল শক্তি-কণারা,যতটা
কাছে আসলে দুরত্বটুকু পরিমাপ করা যায়না আর কোনো স্কেলে, তেমন;
যেমন ধরো,
তোমার আর আমার
মিলিত ঠোঁট, অথবা
আলিঙ্গনে মত্ত দুজনার
বুক, কিংবা ধরে নাও,
ধরে নাও তোমার চোখে
আবদ্ধ আমার চোখ!
তবে আমরা পারিনি, কেন
সেকথা কেউ সঠিক জানি না।
অতটুকু কাছে আসার আগেই
আমরা সরে গেছি দূরে আরও দূরে;
যেভাবে গ্রাভিটিকে উপেক্ষা করে
দূরত্ব বাড়ছে গ্যালাক্সিগুলোর, অথবা
যেভাবে ডার্ক এনার্জির স্রোতে ভেসে
আলোর চেয়ে দ্রুত ছড়াচ্ছে মহাবিশ্ব
আসলে আমরা কি সত্যিই
একে অপরকে হারালাম,
নাকি আমরা নিজেদের
হারিয়ে ফেললাম জীবনের স্রোতে?
জানিনা, জানিনা কিছুই—কিছু প্রশ্নের উত্তর থাকে না
শুধু আক্ষেপই থাকে চিরকাল, কাছে না পাওয়ার।
মন্তব্যসমূহ: