others

others • September 17, 2026 ↗

অন্তর্বর্তীকালীন আক্ষেপ

 

এই যে কিছুই না থাকা, আসলে তো 'কিছুইনা থাকা'; একরাশ বিষন্ন শূণ্যতায় হৃদয় ভার হয়ে থাকা। কোথায় থাকা—কেমন থাকা জিনিসটা বেশ আমুদে লাগে আজকাল/ইদানীং/অদ্য সময়ে; কেউ জিজ্ঞেস করে বসলে আহ্লাদ হয়, আবার মিইয়ে যাই।
কেমন যেন গোছালো গোছালো লাগে সব— বুক কেঁপে ওঠে, ভেতর থেকে কেউ হঠাৎ বলে ওঠে, "সব তছনছ করে ফেলো, সব ধ্বংস করো, সব বিভক্ত করো, সব, সব, সব ; তারপর সব শান্ত— এটাই এনট্রপির নীতি, এটা মহাজাগতিক আইন।"

বোধহয় বহু বৎসর হয় কেউ জিজ্ঞেস করেনি, "কতটা ভালোবাসো? " আদৌ ভালোবাসি কিনা তাও কেউ জিজ্ঞেস করেনি। এটাই উত্তম, প্রকৃতি বোধহয় তাই চায়। একটি জিজ্ঞাসা— জবাবদিহিতার শিকলে বন্দি করে বলেই হয়তো... কারও জন্য হয়তো আজীবন কোনো শিকলের গন্ডি থাকে না। প্রেমহীনতার জন্য এ ভালোবাসাহীনতা নাকি ভালোবাসার প্রচন্ড সংকটে প্রেমের বাজারের আকাশচুম্বী মূল্য চোকানোর দায় কাঁধে নেওয়ার ভয় আমাকে গ্রাস করেছে?

❝কন গাবুরী নঃ বেই যার চেঙে ছড়া লামোনি,
আজি আজি রিনি চায় চোগো ইজেরেদ মাদে যায়।❞

❝বুগোত বান্যে খাদি আন, পিন্নে নুও পিনোনান,
চুল চুদোত ফুল গুজেয়ে, আদত ধজ্জে পাঙেয়ান ❞
— এই চোখের যে মালিক, সে চোখের সাথে আমার কতটা পার্থক্য? আমিও কি আমার চোখে এই চাহনী তুলিনি কখনো? কেন তবুও আমার মনে হয় আমি ভালোবাসি না, আমি স্রেফ, স্রেফ শূন্যতার আঁধার।

অথচ আমারও চিৎকার করে বলতে ইচ্ছা করে—

❝মুই'অ ধঃ তমা সান কোজপেয় জানঙ, কোয়-ও জানঙ, গেই-ও জানঙ...❞
কিন্তু দিন শেষে, অবশেষ থাকে বিদায়ী শ্রাবণের আর্তনাদ হৃদয় জুড়ে—
❝শাওন ফুরেই যিয়েগোই, নেই কনহ্ ফুলো তুমবাজ, মহ্ মনহ্ তিরোজসান্ কন্না ফুরেবহ্....❞

others • September 17, 2026 ↗

দুঃখ আমার সুপরিচিতা

 দুঃখ আমার সুপরিচিতা


মাঝেমধ্যে দুঃখ আসে, আসার কোনো ঠিক নাই, সকালে, দুপুরে,সন্ধ্যায়,রাত-বিরাতে, ভোরে; এসে পাশে বসে কখনো, কখনও কোলে ওঠে। এমনও হয়, দুঃখ এসেই বুকের বাঁ ধারে প্রচন্ড জোরে ঘুষি দিয়ে চলে যায়। আসলে দুঃখ সবসময় থাকে না; চলে যায়, আবার আসে।


সন্ধ্যাতারাও ক্লান্ত হয়ে শেষ রাতে ঘুমাতে যায়, আমি দুঃখের অপেক্ষায় জেগে থাকি।
দুঃখকে সবচেয়ে মায়াবতী আর কোমল মনে হয় যখন সে এসে কোলে ওঠে, জড়িয়ে ধরে। বলতে শরম নেই আমি তার সাথে শুয়েও পড়ি। ও চলে যাওয়ার আগে আমাকে একটা করে কবিতা দিয়ে যায়। কবিতারা নানাভাবেই পয়দা হতে পারে, তবে যারা দুঃখের সন্তান ওরা হয় বিষন্ন সুন্দর। ওদের গা থেকে বেরোনো দুঃখমাখা গন্ধটা বুকের ভেতর কেমন যেন চিনচিনে কষ্ট ফোটায়, আসক্তি লাগায়।


শুধু দুঃখ আসে, আমি যাই না।
এমনটা কেমন একপাক্ষিক প্রেমের মতন হয়, দেখায় বা শোনায়। তা হতে দিই বা কি করে! কখনো কখনো রাত দুপুর হলেও দুঃখ আসে না; অথচ তার জন্য তীব্র আকাঙ্ক্ষায় ভেসে যেতে থাকি। তখন তার খোঁজে বেরিয়ে পড়ি, ঘুরতে থাকি শহর জুড়ে; বনরুপা থেকে ভেদভেদি, রাঙাপান্যে থেকে আসামবস্তি, মৈত্রীনগর আর মহাজনপাড়া পর্যন্ত প্রতিটি কুকুর (যারা আমার মত ভবঘুরে হয়ে উঠতে পারেনি শুধুমাত্র এলাকাবাদ চর্চার দরুন) আমাকে চিনে। আমাকে অগোচরে গালি দেয় 'দুঃখবাজ' বলে, জানি আমি। তবে, আমি খুঁজতে বেরিয়ে কখনো দুঃখের ছায়ারও খোঁজ পাইনি। ও নিজে থেকেই আসে, খুঁজলে পাওয়া যায় না।


তবে, দুঃখ খুঁজতে গিয়ে সুখের মুখোমুখি হই প্রায়ই। সুখ কেমন?
সুখ সদা হাস্যময়ী, আবেদনময়ী, অপার্থিবা সুন্দরী! পালাই পালাই ভাব দেখালেও একটু পরই সে কাছে ঘনিয়ে আসে। কত রাত সুখের সাথে হাত ধরাধরি করে হেঁটেছি জোৎস্নাস্নিগ্ধ পথ ধরে, মাঝেমাঝে নির্জন অন্ধকার গলিতে ঢুকতাম সুখের সাথে। ব্যাপারটা সুখ এবং আমার অভ্যন্তরীণ, তবে বলতে শরম নেই ঠোঁটে মাঝে মাঝে এখনও সুখের স্বাদ পাই অল্পস্বল্প। এক ভোররাতে সুখকে জড়িয়ে ধরে ঘুমিয়ে পড়েছিলাম বনবিথীর গাছতলায়। পাখিরা জাগালো সকালে, জেগে দেখি সুখ নেই, তার দেওয়া কিছু নেই; সুখ বন্ধ্যা।


অনেকদিন ধরে সুপরিচিতা দুঃখের সাক্ষাৎ নেই, সুখও নেই ধারে কাছে কোথাও; মানুষের জীবন এমন নিউট্রাল হয় না, না-মানুষ হয়ে গেছি বোধয়।